আ.লীগ ভারতবিরোধী কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত : আখতার হোসেন

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দিল্লির এক্সটেনশন হিসেবে বাংলাদেশকে শাসন করছিল এবং দেশের স্বার্থের বিরোধিতা বা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি।

বৃহস্পতিবার  বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লি আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়ামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক, চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আবরার ফাহাদ ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের পক্ষে ফেসবুকে যৌক্তিক কথা লিখেছিলেন বলেই হত্যার শিকার হয়েছিলেন। আমরা সেই পানির হিস্যা এখনও বুঝে পাইনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া না হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের উচিত ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করে চুক্তির সঠিক নবায়ন করা।

সীমান্তে হত্যা ও অবৈধ পুশ-ইন বন্ধের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে অন্যায় গুলি ও হত্যা বন্ধের জন্য দিল্লির রাজনৈতিক মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি।’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের অনেক বাংলাভাষী মুসলমানকে নাগরিকত্বহীন করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা ভারতবিরোধী নন, বরং তারা আধিপত্যবাদবিরোধী।’ দ্বিপক্ষীয় যেকোনো চুক্তি বা সম্পর্কে দুই দেশের জন্য পারস্পরিক সুবিধা বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি থাকলে এবং দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকলে তাতে আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি কেবল মুখে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে তা সিকিমের রাজতন্ত্রের পতনের মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

লেখক, চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লেগেসি হলো, ভারতের বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো কথা বলে, তাহলে তাকে প্রতিহত করা। এটা কয়েকটা পর্যায়ে হতো। প্রথমে তাকে মুসলমান বা পাকিস্তানপন্থী ভাবা হতো। এর পরে তাকে জামায়াত-শিবির হিসেবে আইডেন্টিফাই করে বা উগ্রবাদী ট্যাগ দিয়ে তাকে হত্যাযোগ্য করা হতো।’ এর পেছনে জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত রাজনীতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন আজকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন আমরা এটা বলি না যে ভারতের সবকিছুর দিক থেকে আমরা মুখ ফিরিয়ে নেব। আমরা চাই, আমাদের সবকিছু হবে সমান সমান। ভারত আমাদের যেন কিছু চাপিয়ে দিতে না পারে, সেটা আমরা চাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ফ্রিজ ছাড়াই কাঁচা মরিচ দীর্ঘদিন সতেজ রাখার উপায়

» ব্লাড প্রেসার হাই হলে দ্রুত কমানোর উপায়

» প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ জেহাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

» ককরোচ জনতা পার্টির হুশিয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

» নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ

» ‘খেলা শুরু হয়ে গেছে’, মোদি সরকারকে অভিনেতা প্রকাশ রাজ

» ভারতের তরুণদের আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি

» আওয়ামী লীগ ৭১ সাল থেকে মিথ্যা কথা বলে আসছে: শামা ওবায়েদ

» গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক

» বিএনপির লোকজন কি পড়াশোনা করে না, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আ.লীগ ভারতবিরোধী কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত : আখতার হোসেন

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দিল্লির এক্সটেনশন হিসেবে বাংলাদেশকে শাসন করছিল এবং দেশের স্বার্থের বিরোধিতা বা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি।

বৃহস্পতিবার  বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লি আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়ামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক, চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আবরার ফাহাদ ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের পক্ষে ফেসবুকে যৌক্তিক কথা লিখেছিলেন বলেই হত্যার শিকার হয়েছিলেন। আমরা সেই পানির হিস্যা এখনও বুঝে পাইনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া না হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের উচিত ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করে চুক্তির সঠিক নবায়ন করা।

সীমান্তে হত্যা ও অবৈধ পুশ-ইন বন্ধের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে অন্যায় গুলি ও হত্যা বন্ধের জন্য দিল্লির রাজনৈতিক মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি।’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের অনেক বাংলাভাষী মুসলমানকে নাগরিকত্বহীন করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা ভারতবিরোধী নন, বরং তারা আধিপত্যবাদবিরোধী।’ দ্বিপক্ষীয় যেকোনো চুক্তি বা সম্পর্কে দুই দেশের জন্য পারস্পরিক সুবিধা বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি থাকলে এবং দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকলে তাতে আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি কেবল মুখে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে তা সিকিমের রাজতন্ত্রের পতনের মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

লেখক, চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লেগেসি হলো, ভারতের বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো কথা বলে, তাহলে তাকে প্রতিহত করা। এটা কয়েকটা পর্যায়ে হতো। প্রথমে তাকে মুসলমান বা পাকিস্তানপন্থী ভাবা হতো। এর পরে তাকে জামায়াত-শিবির হিসেবে আইডেন্টিফাই করে বা উগ্রবাদী ট্যাগ দিয়ে তাকে হত্যাযোগ্য করা হতো।’ এর পেছনে জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত রাজনীতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন আজকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন আমরা এটা বলি না যে ভারতের সবকিছুর দিক থেকে আমরা মুখ ফিরিয়ে নেব। আমরা চাই, আমাদের সবকিছু হবে সমান সমান। ভারত আমাদের যেন কিছু চাপিয়ে দিতে না পারে, সেটা আমরা চাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com